বৃহস্পতিবার ১১ জুন ২০২৬ - ১৬:৪৩
ইসলাম যুক্তি ও প্রজ্ঞার ধর্ম: হুজ্জাতুল ইসলাম ড. রাফিয়ি

পবিত্র মুবাহালার ঘটনার তাৎপর্য তুলে ধরে হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন ড. নাসের রাফিয়ি বলেছেন, ইসলাম যুক্তি, প্রমাণ ও সংলাপের ধর্ম। তাই মহান আল্লাহ প্রথমে রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে আলোচনা ও বিতর্কের মাধ্যমে সত্য তুলে ধরার নির্দেশ দেন; আর যখন একগুঁয়েমি ও সত্য-অস্বীকারের মুখোমুখি হতে হয়, তখন মুবাহালার নির্দেশ অবতীর্ণ হয়।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: ইরানের ধর্মীয় নগরী কোমে অবস্থিত হযরত ফাতিমা মাসুমা (সা.আ.)’র পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক ধর্মীয় বক্তৃতায় ঈদে মুবাহালার শুভেচ্ছা জানিয়ে হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন নাসের রাফিয়ি বলেন, আজ মুবাহালার দিবস এবং সূরা আলে ইমরানের ৬১ নম্বর আয়াত নাজিলের স্মরণীয় দিন। আগামীকাল পরিবার দিবস এবং সূরা ‘হাল আতা’ অবতীর্ণ হওয়ার দিন।

তিনি বলেন, ইসলাম জ্ঞান, যুক্তি ও প্রজ্ঞার ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি ধর্ম। পবিত্র কুরআনে ‘ইলম’ (জ্ঞান) শব্দটি ৭৭০ বারেরও বেশি এবং ‘আকল’ (বুদ্ধি-বিবেক) শব্দটি প্রায় ৫০ বার উল্লেখ হয়েছে, যা ইসলামে জ্ঞানচর্চা ও চিন্তাশীলতার গুরুত্বকে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

হুজ্জাতুল ইসলাম রাফিয়ি বলেন, মহান আল্লাহ রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে নির্দেশ দিয়েছেন মানুষকে প্রজ্ঞা, উত্তম উপদেশ এবং সুন্দর সংলাপের মাধ্যমে ইসলামের দিকে আহ্বান করতে। এ কারণেই মহানবী (সা.) প্রথমে মুশরিকদের সঙ্গে যুক্তিনির্ভর আলোচনা করেন এবং পরে মদিনায় হিজরতের পর বিশ্বের বিভিন্ন শাসক ও নেতার কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দেন।

তিনি উল্লেখ করেন, মহানবীর (সা.) পাঠানো চিঠির জবাবে একদল খ্রিস্টান প্রতিনিধি ইসলামের বিষয়ে আলোচনার জন্য মদিনায় আগমন করেন। সে সময় মুসলমান ও খ্রিস্টানদের মধ্যে প্রধান মতপার্থক্যের বিষয় ছিল হযরত ঈসা (আ.)-এর মর্যাদা ও পরিচয়। মুসলমানরা তাঁকে আল্লাহর বান্দা ও নবী হিসেবে বিশ্বাস করতেন, আর খ্রিস্টানরা তাঁকে আল্লাহর পুত্র বলে মনে করতেন।

হুজ্জাতুল ইসলাম রাফিয়ি বলেন, এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা এমন একটি আয়াত নাজিল করেন, যেখানে হযরত ঈসা (আ.)-এর দৃষ্টান্তকে হযরত আদম (আ.)-এর দৃষ্টান্তের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। কিন্তু সুস্পষ্ট যুক্তি ও দলিল উপস্থাপনের পরও যখন খ্রিস্টান প্রতিনিধিরা নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকেন, তখন মহানবী (সা.) তাদের মুবাহালার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, অনেক ব্যক্তি গাদিরের ঘটনাকে স্বীকার না করলেও মুবাহালার ঘটনাকে অস্বীকার করেন না। অথচ মুবাহালার আয়াতে আমিরুল মুমিনীন হযরত আলী (আ.)-কে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ‘নফস’ বা স্বয়ং সত্তার মর্যাদায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মুবাহালার শিক্ষা ও তাৎপর্য সম্পর্কে হুজ্জাতুল ইসলাম রাফিয়ি বলেন, এর প্রথম বার্তা হলো ইসলামের সত্যতা ও ন্যায়সঙ্গত অবস্থান। ইসলাম সত্য না হলে রাসূলুল্লাহ (সা.) কখনো মুবাহালার জন্য অগ্রসর হতেন না।

তিনি বলেন, মুবাহালার দ্বিতীয় শিক্ষা হলো পাঞ্জেতনে পাকের (আ.) বিশেষ মর্যাদা এবং তাঁদের দোয়া কবুল হওয়ার বৈশিষ্ট্য। তৃতীয় শিক্ষা হলো আহলে বাইত (আ.) ও মহানবীর (সা.) পবিত্র বংশধরদের অসামান্য ফজিলত ও মর্যাদা।

হুজ্জাতুল ইসলাম রাফিয়ি আরও বলেন, মুবাহালার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো সমাজে নারীর সক্রিয় ও গঠনমূলক ভূমিকা। মুবাহালায় হযরত ফাতিমা যাহরা (সা.আ.)-এর উপস্থিতি প্রমাণ করে যে নারী সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ও সিদ্ধান্তমূলক অঙ্গনেও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে সক্ষম।

তিনি বলেন, মুবাহালার ঘটনা সত্য ও একগুঁয়েমির মধ্যকার পার্থক্যকে স্পষ্ট করে এবং ইসলামী বিশ্বাস ও আদর্শের দৃঢ়তার সাক্ষ্য বহন করে। এ কারণেই ইতিহাসে দেখা যায়, পরবর্তী যুগেও বহু আলেম ও মনীষী সত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মুবাহালার পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha